দেশে থাকতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন সুনামগঞ্জের যুবক মুহিবুর রহমান। তার আয়েই চলত পুরো সংসার। এরমধ্যেই সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভূমধ্যসাগরের মাঝেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুহিবুর রহমান ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে মহিবুর ছিলেন সবার বড়। গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু দালাল তাঁর ‘ভালো–মন্দ’ খবর নিশ্চিত করেনি।
পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে নিশ্চিত করে। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ আহমদ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। মারুফের ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো মাঝ সমুদ্রেই ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।
আরও
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবাবারে হাল ধরতে ও ভবিষ্যত সুন্দর করার আশায় দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তিতে মুহিবুর সহ কয়েকজন যুবক এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান। পরে ঐ চক্র লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক একই পথে রওনা দেন।










