সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থান ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। মূলত আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধ ড্রোন শনাক্ত করার কাজে যুক্ত নজরদারি স্থাপনাগুলোকেই এই হামলায় প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীর ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এই সফল আঘাত হানা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই হামলায় ইরানের ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কড়া জবাব হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী এখন দখলকৃত অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একটি মার্কিন উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে ইরান।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তানসিরির মৃত্যুর বিষয়টি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাহিনীটি। চার দিন আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছিলেন যে তাঁদের বিমান হামলায় তানসিরি নিহত হয়েছেন। আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন দ্বীপ ও উপকূলের প্রতিরক্ষা জোরদার করার কাজ তদারকি করতে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আরও
ওই বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আলিরেজা তানসিরির অনুপস্থিতিতেও বাহিনীর নৌ শাখা সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় রেখেছে। তারা আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে বিনাশ না করা পর্যন্ত এই প্রতিরোধ হামলা কোনোভাবেই থামবে না। উল্লেখ্য, আলিরেজা তানসিরি ২০১৮ সালে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর আগে ২০১০ সাল থেকে তিনি এই বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।









