মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার জেরে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের প্রবাসী পরিবারগুলোর। বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার প্রবাসীর স্বজনেরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে থাকা এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জরুরি নোটিশ জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, রিয়াদ, দোহা ও বাহরাইনে অবস্থানরত স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
ইফতারের পরপরই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের খোঁজ নিতে ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্বজনরা। প্রতিটি ‘ব্রেকিং নিউজ’ মানেই যেন নতুন এক দুশ্চিন্তা। কাতারের দোহায় থাকা রাঙ্গুনিয়ার তসলিম উদ্দিন জানান, হামলার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি ড্রোন হামলার কারণে কর্মস্থল থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী শাহানা আক্তার দেশে বসে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী-ভাই সবাই সেখানে আছে, ছোট বাচ্চারাও টেনশন করছে। মন মানছে না।
আরও
দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা ও হটলাইন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দুবাইয়ের কনস্যুলেট জেনারেল প্রবাসীদের জন্য জরুরি হটলাইন চালু করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য নিচের নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে : যে কোনো সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকা, বিপদ না কাটা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া, অযথা জটলা বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া।
দুবাইয়ে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি থমথমে হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশিরা নিরাপদ আছেন। তবে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংঘাতের কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অনেক প্রবাসীর যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ওমানগামী যাত্রী কাশেম মাহবুব জানান, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি, অথচ তার ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীরা দেশে ফিরবেন নাকি সেখানেই থাকবেন, তা নিয়ে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কোম্পানি থেকে ছাঁটাই বা জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার শঙ্কাও কাজ করছে তাদের মনে।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা কামনায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আচার পালন করা হচ্ছে। হাটহাজারীর সরকার হাট এলাকায় মাওলানা জুলহাস উদ্দিনের পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশির সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনায় এ আয়োজন করা হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া কর্মীদের পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।








