ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার বরাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সেই মরদেহের ছবিও দেখানো হয়েছে। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২–এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নিজের বাসভবন বা প্রাসাদের কম্পাউন্ডেই প্রাণ হারিয়েছেন খামেনি এবং ধ্বংসস্তূপ থেকেই ইরানি উদ্ধারকর্মীরা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

গত শনিবার সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় ধরনের যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো ভবনটি রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ওই এলাকার একটি স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের ছবি প্রকাশ করে। প্রকাশিত সেই ছবিতে খামেনির প্রাসাদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও
তবে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর এই ইসরায়েলি দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর খবরটিকে শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক বা স্নায়ুযুদ্ধের একটি সুকৌশলী অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এমন গুজবে কোনোভাবেই বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সব মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি দাবির ঘটনা পুরো অঞ্চলে নতুন করে মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে জোর দিয়ে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রচার করা হচ্ছে এবং উপগ্রহের ছবি সামনে আনা হচ্ছে, অন্যদিকে ইরান বিষয়টিকে স্রেফ অপপ্রচার বলে দাবি করছে। ফলে এই খবরের প্রকৃত সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন ব্যাপক ধোঁয়াশা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স










