সর্বশেষ

শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আবারও উত্তাল ইরান

Image 268498Probashir city Popup 19 03

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক শোক র‍্যালিতে ব্যাপক সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন দেশটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় ও প্রবাসীদের পরিচালিত ইরানবিষয়ক বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং সরকার সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার রাজধানী তেহরানের শীর্ষ একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের কিছু ভিডিওর সত্যতা তারা যাচাই করতে পেরেছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে দুই পক্ষের হাতাহাতি শুরু হয় এবং ক্ষুব্ধ লোকজন ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে চিৎকার করছেন। এ ছাড়া বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’–এর সম্প্রচারিত ফুটেজেও তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

শিয়া ধর্মাবলম্বীদের শোক পালনের প্রথা অনুযায়ী, কারও মৃত্যুর ৪০তম দিনে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে চলতি সপ্তাহে ইরানের সাধারণ জনগণ আবারও রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শনিবার মূলত রাজধানীর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফারস জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিটি প্রাথমিকভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়া শুরু হলে তা বিক্ষোভে রূপ নেয়। ফারসের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক পরা একদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি অবস্থান নেন ইরানের পতাকা হাতে থাকা আরেক দল মানুষ। স্যুট পরা কিছু ব্যক্তিকে এ সময় দুই পক্ষকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম আর্থিক দুরবস্থার জেরে গত ডিসেম্বরে ইরানের রাজধানী তেহরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ–এর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনে এই আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী। অন্যদিকে ইরান কর্তৃপক্ষ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাদের দাবি, শত্রুদের উসকানিতে হওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।

এদিকে এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ইরানে নতুন করে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন পরমাণু চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা চরমে। বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি এলাকায় নিজেদের সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করেছে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03