ফিলিস্তিনের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে দখলদার ইসরায়েলের আগ্রাসনে সমর্থন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলায় তেল আবিবকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী এক মার্কিন সামরিক কমান্ডারকে নিজেদের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করেছে সৌদি আরব। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লাকে ‘বাদশাহ আব্দুল আজিজ’ পদক তুলে দিয়েছেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাঁকে এই সামরিক ও বেসামরিক সম্মাননা দেওয়া হয়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে এমন একজন বিতর্কিত মার্কিন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে এখন তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা ২০২২ সালে সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একাধিক মার্কিন হামলায় বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালাতে তিনি ইসরায়েলি বাহিনীকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন এবং আল-আকসায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রকাশ্য সমর্থন জুগিয়েছেন। গত বছর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় যখন চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন মার্কিন কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে এই কুরিল্লাই মন্তব্য করেছিলেন যে গাজার মানবিক পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা।
কেবল ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, এর আগে সিরিয়াতেও বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন এই মার্কিন কমান্ডার। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিরিয়ার আল-হোল শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সেটিকে একটি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই শিবিরের মানুষদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না হলে সেখানকার মুসলিম শিশুরাই ভবিষ্যতে আইএসের যোদ্ধা বা সন্ত্রাসী হিসেবে বেড়ে উঠবে। অন্যদিকে, সদ্যই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাইলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম আসার রেশ কাটতে না কাটতেই ফিলিস্তিনবিরোধী এক মার্কিন জেনারেলকে তাঁর নির্দেশে এমন সম্মাননা প্রদান সৌদি আরবের বৈশ্বিক অবস্থানকে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আরও
অবশ্য ফিলিস্তিন ইস্যুতে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পালনকারী এই মার্কিন জেনারেলকে পুরস্কৃত করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সৌদি প্রশাসনের এই পদক্ষেপের আগে গত বছর পাকিস্তান সরকারও জেনারেল কুরিল্লাকে সম্মানজনক ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ নামক সামরিক পদকে ভূষিত করেছিল। তবে বর্তমান গাজা ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতির চরম স্পর্শকাতর মুহূর্তে সৌদি আরবের মতো একটি প্রভাবশালী আরব ও মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এমন পুরস্কার প্রদানকে চরম দ্বিচারিতা হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।












