সর্বশেষ

নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল আত্মসাৎ, ৮ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের দোষ স্বীকার

Web Image 20260217City ads Investment (1)

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে করোনা মহামারি চলাকালীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে আটজন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতসহ মোট নয়জন আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে তারা নিজেদের অপরাধ মেনে নেন। আদালত অভিযুক্তদের সম্মিলিতভাবে ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২০ সালের জুন মাস থেকে অভিযুক্তরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর অধীনে ভুয়া নথিপত্র দিয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তারা দাবি করেছিলেন, সরকারি অনুদান কর্মীদের বেতন, অফিস ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় হবে। কিন্তু ব্যাংক রেকর্ড ও ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনুদানের অর্থ পাওয়ার পরপরই তা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বাস্তবে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমই ছিল না।

কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং এক যৌথ বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, মহামারির মতো নজিরবিহীন সংকটকালে যখন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন এই তহবিল চুরি করা অমার্জনীয়। সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করলে যে আইনি পরিণতি ভোগ করতে হয়, এই রায় তারই দৃষ্টান্ত।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাহবুব মালিক, তোফায়েল আহমেদ, ইউসুফ এমডি, মোহাম্মদ চৌধুরী (খোকন আশরাফ), জাকির চৌধুরী, মোহাম্মদ খান, তানভীর মিলন, জুনেদ খান এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ। এ বিষয়ে আসামি জাকির চৌধুরী জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সম্মানহানি এড়াতে তিনি আদালতের নির্দেশে জরিমানা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন, যদিও তিনি এর জন্য তার সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনারকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত খোকন আশরাফ দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তিনি তার অংশের টাকা পরিশোধ করেছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিসের তদন্তের পর মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে হস্তান্তরিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা পর্যায়ক্রমে আত্মসমর্পণ করে দোষ স্বীকার করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, করোনাকালীন তহবিলের অপব্যবহার সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয় বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup