সাভারে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্য যাচাই-বাছাই এবং ঘটনাগুলোর সঙ্গে প্রমাণের মিল খতিয়ে দেখার কাজ চলমান।
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি মানসিক রোগী নন; তবে অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধের পুনরাবৃত্ত প্রবণতা তৈরি হয়ে যাওয়ায় ঘটনাগুলো ধারাবাহিক আকার ধারণ করে এবং মানুষের জীবন নেওয়াই তার কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়।
পুলিশ বলছে, ‘মশিউর রহমান সম্রাট’ নামটি তার প্রকৃত পরিচয় নয়; পরিচয় গোপন রাখতে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার বাড়ি সাভারে নয় বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অন্য কোথাও অপরাধ সংঘটনের পর তিনি সাভারে এসে ভবঘুরে জীবন বেছে নিতে পারেন—এমন সন্দেহও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে আসার পর তিনি প্রধানত বাসস্ট্যান্ড এলাকার আশপাশে অবস্থান করতেন এবং কিছু সময় স্থানীয় একটি স্থানে রাত কাটাতেন। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই এক বৃদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনার পর তিনি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরবর্তী পাঁচ মাসে ওই ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ নজরদারি জোরদার করলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পরে মরদেহ উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন; এখন ভিকটিমদের পরিচয় শনাক্ত এবং আরও কোনো অপরাধে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।










