মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার, সেখানে ভয়াবহ নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মোস্তফা (৪৬) ও মো. মহসিন মিয়া (৪২), যারা একটি মানব পাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ ও র্যাব-৯-এর যৌথ আভিযানিক দল সাতমোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট এজেন্সির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার করছিল।
ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক (২২) ওই চক্রের প্রলোভনে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে তাকে একটি সিমেন্ট কারখানায় আটকে রেখে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয় এবং শারীরিকভাবে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা তিন লাখ টাকা প্রদান করলেও তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আরও
র্যাব আরও জানায়, এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী কৌশলে একটি পাসপোর্ট সংগ্রহ করলেও তাকে পুনরায় একটি অপরাধী চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার একটি পুলিশ চেকপোস্টে পাচারকারীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে তাকে চার মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
২০২৫ সালে দেশে ফিরে ভুক্তভোগী আদালতের নির্দেশে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।











