চলমান সহিংস সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইরানি প্রবাসীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভে নেমেছেন। দেশের ভেতরে থাকা পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন তারা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার দরপতন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এই বিক্ষোভকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ইরানে মুদ্রা সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। দুর্নীতি, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের ফলে দেশটিতে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা এখন রাজপথে বিস্ফোরিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে শত শত ইরানি-আমেরিকান বিক্ষোভ করেন। তীব্র শীত ও বৃষ্টির মধ্যেও তারা ইরানের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে খামেনিবিরোধী স্লোগান দেন এবং আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। একইভাবে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিট ও ইরানি দূতাবাসের সামনে ইরানি প্রবাসীরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।
আরও
ফ্রান্সের প্যারিসে আইফেল টাওয়ারের সামনে এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে শত শত ইরানি প্রবাসী সমবেত হয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি তোলেন। জার্মানির বার্লিনেও ইরানি প্রবাসীরা ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরানি কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে সমবেতদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে আন্দোলন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ইরান সরকার এই সংকট থেকে সহজে বেরোতে পারবে না। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে জনগণের অসন্তোষ এখন গভীর ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কঠোর দমননীতিতে অটল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।











