সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হলেও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের অবৈধ হয়ে পড়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে দেশটিতে সাত লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেলেও একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভিসা জটিলতা, জেল-জরিমানা ও কাজ না পাওয়ার কারণে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ অস্থিরতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সৌদি আরবেই গেছেন সাত লাখ ৫১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রেও দেশটি শীর্ষে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছে দুইশ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের বিপরীতে উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো—২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে বিভিন্ন অভিযোগে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত আসা শ্রমিকদের অনেকেই জানান, দালালনির্ভর ভিসা ও মৌখিক চুক্তির ফাঁদে পড়ে তারা প্রতারিত হয়েছেন। কাজ না পেয়ে একাধিকবার ভিসা পরিবর্তন করতে হয়েছে, মালিককে নিয়মিত কমিশন দিতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ভিসা বাতিল হয়ে জেল ও জরিমানার শিকার হতে হয়েছে। এতে ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়া কর্মীরা দেশে ফিরে চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
আরও
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে রিক্রুটিং এজেন্সির গাফিলতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তদারকির দুর্বলতাও দায়ী। তারা বলছেন, সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারকদের গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। প্রয়োজনে দায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শ্রমিক প্রেরণকারী সংগঠনগুলোর মতে, ভিসা সোর্সিং ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নেওয়া ভিসায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তারা তাকামল পরীক্ষাসহ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কর্মীবান্ধব করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর সমন্বয় ছাড়া সৌদি শ্রমবাজারের এই অস্থিরতা কাটানো কঠিন হবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।











