রাজধানীর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় সংঘটিত এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি ওয়ারী বিভাগ। হত্যায় ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং পরে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—তাসলিমা আক্তার (১৮), সৌদি আরবপ্রবাসী আরাফাত হোসেন (২২), মো. সাকিব খান (২২), নয়ন মিয়া (২২), নুরুজ্জামান শ্যামল (২০) ও রাকিব মিয়া (২২)। ডিবি জানায়, নিহত আল আদিয়াত সায়র (১৭) ও তাসলিমা আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় সায়র গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে এবং তা বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে তাসলিমা নতুন করে আরাফাত হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে পরিস্থিতি জটিল হয়।
আরাফাত হোসেন বিদেশ থেকে ফিরে পরিকল্পিতভাবে প্রতিশোধ নিতে তাসলিমার সঙ্গে মিলে হত্যার ছক আঁকে। তদন্তে উঠে আসে, ৩ নভেম্বর তাসলিমা ভিকটিমকে পূর্বাচল থেকে উলুখোলা এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে সহযোগী হুজাইফা ও ইজিবাইকচালক রাকিব তাদের গ্রহণ করে। এরপর রাতে বিন্দান রোডে ইজিবাইকের ভিতরেই আরাফাত ও রাকিব ভিকটিমের গলা টিপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘোড়াশাল–টঙ্গী মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে তারা পালিয়ে যায়।
আরও
ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে নালিশী আবেদন করা হলে কদমতলী থানায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ২৬ নভেম্বর ডিবি ওয়ারী বিভাগ পায়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও নজরদারি পরিচালনা করে ৩১ ডিসেম্বর ফতুল্লা থেকে প্রথমে তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে ও সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে।
তাসলিমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিস্তারিত জবানবন্দি গ্রহণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যার কারণ, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।









