বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত স্টেশন ম্যানেজারের সাম্প্রতিক বদলি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। ৭ ডিসেম্বর জারি করা আদেশে ঢাকায় কর্মরত সহকারী ম্যানেজার (গ্রাউন্ড সার্ভিস) শামিমা পারভীনকে কুয়েত স্টেশনের নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তার স্বামী মো. শাহাজাহানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে, যিনি তিন বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালন করার পর বদলি হয়েছেন।
ফরেন সার্ভিস উইংয়ের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) রোখসানা আক্তারের স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় মো. শাহাজাহানকে স্টেশনটি থেকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তার স্থানে নিয়োগ পাচ্ছেন শামিমা পারভীন, যা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ‘স্বার্থের সংঘাত’ এবং ‘নীতিগত প্রশ্ন’ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কর্মকর্তা–কর্মচারীদের একাংশ বিষয়টিকে ‘অভূতপূর্ব’ এবং ‘তদবিরনির্ভর নিয়োগ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে স্বামীর স্থলে স্ত্রীকে একই পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। যোগ্য কর্মকর্তারা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ প্রভাব বা সুপারিশের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।
আরও
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নীরব অবস্থান বজায় রেখেছেন। এমনকি সংস্থার মুখপাত্র বোসরা ইসলামও মন্তব্য করতে বিরত থাকেন, যা নিয়োগ–বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তথ্যমতে, মো. শাহাজাহান (পি–৩৬৪৮৯) এবং শামিমা পারভীন (পি–৩৬৫০৫) উভয়েই ১৯৯৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে জুনিয়র ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে চাকরিজীবনের সম্পর্ক থেকেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এই পদায়ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।












