লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দাফনের দুই মাস পর সৌদি আরবপ্রবাসী মহসিন কবিরের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেনের উপস্থিতিতে এ উত্তোলন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিহত মহসিন স্থানীয় মাওলানা মো. নুরুল্লাহর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরির উদ্দেশ্যে মহসিন সৌদি আরবে যান। সেখানে মালিক মোরশেদ আলমের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার বিরোধ বাধে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই দ্বন্দ্বের মাঝেই চলতি বছরের ১৭ আগস্ট মহসিন অপহৃত হন। অপহরণের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সৌদি পুলিশের মাধ্যমে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে পাঠানো হয়।
আরও
মরদেহ গ্রহণের পর থেকেই পরিবার দাবি করে আসছে, মহসিন স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগে গত ২২ অক্টোবর মহসিনের স্ত্রী রওশন আক্তার চারজনকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মোরশেদ আলম ছাড়াও তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার, আত্মীয় হাছিব ও রায়হানকে দায়ী করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মোরশেদের সঙ্গে বিরোধ থাকার কারণে তাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে এলাকায় ধারণা প্রচলিত। তাদের অভিযোগ, সৌদি আরবে থাকা স্বজন বা দূতাবাসকে না জানিয়েই মরদেহ পাঠানো হয়, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে। তদন্ত সম্পন্ন হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।











