কম খরচের (লো–কস্ট) এয়ারলাইন্স হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে বাজেট ক্যারিয়ারগুলোর ভাড়া প্রচলিত এয়ারলাইন্সগুলোর চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, লো–কস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কি না, তা নির্ণয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে নবাগত বাজেট এয়ারলাইন ফ্লাইআডিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সউদিঅ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইআডিল সম্প্রতি ঢাকা–জেদ্দা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করেছে। এটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তাদের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে লো–কস্ট এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত অল্প সুবিধা দিয়ে কম ভাড়া রাখে, কিন্তু বাংলাদেশে পরিস্থিতি উল্টো। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৌলিক সেবাও যেখানে অতিরিক্ত মূল্যে পাওয়া যায়, সেখানে লো–কস্ট এয়ারলাইন্সের ভাড়া কীভাবে প্রচলিত ক্যারিয়ারের চেয়েও বেশি হয় এবং বাড়তি অর্থ আসলে কার কাছে যাচ্ছে। এই আর্থিক প্রবাহের সঠিক অনুসন্ধান করে সমস্যার উৎস চিহ্নিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আরও
শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, বিমানবন্দর পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতি—যেটিকে তিনি ‘ক্রিমিনালিটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন—এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করলেও সক্ষমতা মাত্র ৮০ লাখের মতো। নতুন টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে চাপ কমানো এবং অধিক এয়ারলাইন্স যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুশাসন ফিরিয়ে আনতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অতিরিক্ত টিকিটমূল্য গুনে দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারার বাস্তবতাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতেই বহু বছরের উপার্জন লেগে যায় অভিবাসীদের। উচ্চ ভাড়ার কারণে তারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেও দেশে ফিরতে পারেন না, যা তাকে ব্যথিত করে।
অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, ফ্লাইআডিলের সিইও স্টিভেন গ্রিনওয়ে এবং বাংলাদেশে সংস্থাটির জিএসএ অ্যাভিয়েন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জাহান উপস্থিত ছিলেন।











