ইতালির পেস্কারা ও আবরুৎসো অঞ্চলে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মাহবুব আহমেদ (৪৫) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ি সিলেটে। তিনি নিজেকে পেস্কারা বিএনপির আহ্বায়ক দাবি করলেও এ বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পাওয়া যায়নি।
ইতালির পুলিশ জানায়, মাহবুব আহমেদের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত চক্র “দেক্রেতো ফ্লুসি” সুযোগ ব্যবহারের নামে ভুয়া জব কন্ট্রাক্ট, মিথ্যা নথিপত্র ও ফাইল তৈরি করে শত শত বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করিয়েছে। অভিবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে চক্রটি প্রায় ৩ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ কোটি টাকারও বেশি, হাতিয়ে নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও
চক্রটির বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন পরিচালনার পাশাপাশি চাঁদাবাজির চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, এমনকি ডাকাতি—এমন গুরুতর অভিযোগও তদন্তে মিলেছে। এ মামলায় আরও অন্তত ১৯ জনকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—এদের অনেকে নথি প্রস্তুত, অর্থ লেনদেন এবং অভিবাসী সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিল।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, চক্রটির সঙ্গে স্থানীয় কিছু ইতালীয় নাগরিকও সম্পৃক্ত ছিল। তারা ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে “ক্লিক ডে”র জন্য কাগজপত্র তৈরি করে দিত, যার মাধ্যমে অবৈধভাবে অভিবাসীদের কাগজ পেতে সহায়তা করা হতো। ঘটনার পর ইতালি সরকার দেক্রেতো ফ্লুসি–সংক্রান্ত যাচাই–বাছাই আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইতালিস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলেন, এ ধরনের প্রতারণা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এবং প্রকৃত শ্রমিকদের বৈধ অভিবাসনের পথকে কঠিন করে তোলে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











