গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের রতন ঢালী (২৪) পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) সংগঠনে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করার সময় নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে রতনের মৃত্যু হয়। একই অভিযানে ফয়সাল হোসেন (২২) নামে আরেক বাংলাদেশিও প্রাণ হারায়।
নিহত রতন ঢালী প্রায় ১৮ মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে অভিযোগ তার পরিবারের। রতনের বাবা আনোয়ার ঢালী স্থানীয়ভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রতনের পরিবার জানায়, সে শেষবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে, তখন তিনি ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন এবং শিগগিরই দুবাই যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রতন ও ফয়সাল গত বছরের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে টিটিপিতে যোগ দেন। তারা আগে ঢাকার একটি ইজামা সেন্টারে কাজ করতেন।
আরও
রতনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। মা সেলিনা বেগম বলেন, রোজার ঈদে রতন শেষবার ভিডিও কল করেছিলেন এবং পরে আর তার সঙ্গে কথা হয়নি। বাবা আনোয়ার ঢালীও জানিয়েছেন, রতনের আচরণ কিছুটা পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনা নেন।
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও মুকসুদপুর থানার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি টিটিপি সদস্যদের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে রতনও ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবার এখনো শোক ও অগোচরে এই ঘটনাটিকে গ্রহণ করতে পারেনি।











