বৈধ পাসপোর্ট ও বাংলাদেশের ভিসা থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারলেন না ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের আফরিনা হাসনাত। শুক্রবার (১ নভেম্বর) উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ‘অযৌক্তিক প্রশ্ন ও বাধা’র কারণে ফের বহরমপুরে ফিরে যেতে হয় তাঁকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আফরিনা হাসনাত মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরের বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক ও সমাজকর্মী মীর হাসনাতের কন্যা। মেয়ে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আফরিনা জানান, তিনি কলকাতা থেকে বাসে করে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। সীমান্ত চেকপোস্টে নিয়মমাফিক পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদর্শনের পর কর্মকর্তারা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি ভারতীয় ভোটার কিনা। এরপর তাঁকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ, মাধ্যমিক পরীক্ষার এডমিট কার্ড বা বাড়ির দলিল দেখাতে বলা হয়। তবে সেই মুহূর্তে এসব নথি না থাকায় তাঁকে সীমান্ত পার হতে দেওয়া হয়নি।
আরও
তিনি বলেন, “আমার হাতে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও বাংলাদেশের ভিসা ছিল—যা নাগরিকত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কিন্তু ইমিগ্রেশন অফিসার সেগুলো গ্রহণ না করে অন্য নথি দাবি করেন। এমনকি আমি আধার কার্ড ও বাবার প্যান কার্ড দেখালেও তা মানেননি।” ফলে তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ যাত্রা বাতিল করতে হয়।
এই ঘটনার পর আফরিনার বাবা মীর হাসনাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি জন্ম থেকেই ভারতে আছি, পঞ্চাশ বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছি। কখনো নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এখন আমার মেয়েকে নিয়ে এমন প্রশ্ন করা অত্যন্ত অপমানজনক।” তিনি এ ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যখন বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা রয়েছে, তখন নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে এমন জিজ্ঞাসাবাদ কতটা যুক্তিসঙ্গত? তাঁদের মতে, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরও দেখুনঃ












