বাংলাদেশ সরকার বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করতে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শুরু করেছে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)-র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বুধবার (১৫ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ক পারমিট অ্যান্ড সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রসেস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এই তথ্য জানান। সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়া সরলীকরণ, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ জানান, ভিসা কনভার্সনসহ নানা জটিলতা দূর করতে কাজ চলছে। “নতুন নীতিমালা অপরাধীদের জন্য কঠোর হলেও, যারা নিয়ম মেনে কাজ করবেন তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে,” তিনি বলেন। কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যাতে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা যায়।
বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার চালু হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে সম্পূর্ণ অনলাইন সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে। আবেদনকারীরা বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে সব নথি জমা দিতে পারবেন। প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে প্রয়োজনীয় নথির সংখ্যা ৩৪টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে আনা হয়েছে। এছাড়া ভিসা ফি এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে এবং চীনা নাগরিকরা চাইনিজ ইউয়ান (আরএমবি) মুদ্রায় ফি দিতে পারবেন।
আরও
কর্মশালায় বিদেশি ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ব্যবহার করা নিম্নমানের সিসা–অ্যাসিড ব্যাটারি-এর পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও আলোচিত হয়। বিডার চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, এখনো উচ্চমানের ব্যাটারি উৎপাদনে অগ্রগতি কম এবং পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক হবে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও বলেন, বিদেশি কর্মীরাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আমাদের নিজেদের লোকদেরই প্রস্তুত হতে হবে। কোনো বিদেশি নাগরিক বিশেষ সুবিধা পাবে না, এবং সিস্টেমের অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”











