নড়াইলের এক প্রবাসী যুবকের পরিবারের আর্তনাদ সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ভিডিও কলে ছেলের কষ্টের কথা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন মা–বাবা ও স্ত্রী। সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের আশায় যাওয়া শিমুল শেখ এখন দুঃসহ দিন কাটাচ্ছেন কাজ ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী খাইরুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে শিমুলকে সৌদি পাঠান। এজন্য পরিবারকে জমি বন্ধক ও ঋণ করে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিশ্রুতি ছিল, ভালো চাকরি ও আকামার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে শিমুল প্রতারণার শিকার হন। চাকরি মেলেনি, বরং নতুন করে আরও টাকা দাবি করা হয়। দিতে না পারায় তিনি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ভিডিও কলে শিমুল জানান, তাঁকে গাড়িচালকের কাজের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু লাইসেন্স করাতে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তিনি পুলিশি ঝুঁকি নিয়ে অস্থির জীবনযাপন করছেন। “ঠিকমতো খেতে-পরতে পারছি না, সব সময় ভয়ে আছি,” বলেন তিনি।
আরও
শিমুলের মা পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, টাকার দাবি মেনে নিতে না পারায় ছেলেকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিমুল পালিয়ে যায় এবং এখনো নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবা জাফর শেখ বলেন, দালালরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ বা আকামা দেয়নি, বরং বারবার টাকা দাবি করছে।
অভিযুক্ত শরিফুল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিমুলকে কাজ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি নিজেই পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে খাইরুলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শিমুলের মা আদালতে মামলা করেছেন। বিষয়টি যশোর পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।











