ফরিদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এখন শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। গেটের সামনে মাইক থেকে বারবার প্রচার করা হচ্ছে, দালালের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি সেবা নিতে আসার আহ্বান। মূল প্রবেশপথ ও দেয়ালে সেঁটে দেওয়া সতর্কবার্তায়ও লেখা রয়েছে— পাসপোর্ট সেবা নিতে হলে মূল এনআইডি, জন্মসনদ ও নাগরিক সনদ সঙ্গে আনতে হবে। এতে দালালদের কার্যক্রম কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে।

অফিসে ঢুকতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা আবেদনকারীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। শুধু পাসপোর্ট প্রত্যাশী ছাড়া অন্য কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গেট থেকে শুরু করে সেবা কাউন্টার পর্যন্ত সব জায়গায় এখন শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবেদন গ্রহণ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে শুরু করে পাসপোর্ট সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ফিরেছে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা।
আরও
একসময় দালালচক্রের প্রভাব, অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও অসহযোগিতার কারণে এ অফিস ছিল ভোগান্তির প্রতীক। কিন্তু উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম যোগদানের পর চিত্র বদলে গেছে। শুরু হয়েছে নিয়মিত গণশুনানি, খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক ও মোবাইল এনরোলমেন্ট ইউনিট। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ আবেদনকারীরাও সহজে সেবা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে অনলাইন আবেদন, এসএমএস নোটিফিকেশন ও ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ায় সেবার মান বেড়েছে।
সেবা প্রত্যাশীরা জানাচ্ছেন, আগে নানা অব্যবস্থাপনা থাকলেও এখন নির্ধারিত সময়েই পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন তারা। অনেকের মতে, দালাল ও অতিরিক্ত খরচের ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ আবেদনকারীরা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
উপ-পরিচালক আবু নাঈম মাসুম বলেন, অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যে কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান দেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে দালালের কাছে না গিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে এসে সেবা নেওয়ার আহ্বান জানান।











