মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন অদক্ষ শ্রমিকনির্ভর হলেও প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে এখন সেখানে অদক্ষ শ্রমের চাহিদা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা লোডিং-আনলোডিংয়ের মতো কাজেও কিছুটা দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাপান, কোরিয়া ও ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী পাঁচ বছরে জাপানেই এক লাখের বেশি শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে সঠিক গবেষণা না থাকা। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোও এ ক্ষেত্রে সীমিত ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উন্নতি হলেও টেকসই অগ্রগতির জন্য পরবর্তী সরকারের কাছে করণীয় দলিলও রেখে দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, তিন বছরের মধ্যেই নতুন নতুন দেশে দক্ষ, অদক্ষ, মৌসুমি ও স্থায়ী সব ধরনের কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর দিকেও অগ্রগতি হয়েছে। মালয়েশিয়ায় খুব শিগগিরই কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আরব আমিরাতে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। অন্যদিকে ওমানের শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। দেশটির মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে শিগগিরই ওমানের শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আরও
অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রবাসী লাউঞ্জ, সার্বক্ষণিক সহায়তাকারী ও রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, শ্রমিকের ভোগান্তি হ্রাস এবং প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।










