দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বছরে সাড়ে ১১ হাজার কোটা বরাদ্দ থাকলেও তা পূরণে বাংলাদেশ এখনও সফল হতে পারেনি। ২০০৮ সাল থেকে এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটিতে শ্রমিক প্রেরণ শুরু হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এ কোটা ব্যবহার করতে না পারার ফলে বাংলাদেশ প্রচুর সুযোগ হারাচ্ছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫ হাজার ৯১০ জন বাংলাদেশি কর্মী ইপিএসের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী বছর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৬ জনে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত মাত্র ৮৪০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভাষাগত সীমাবদ্ধতাকে কোটা পূরণে প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করছেন।
আরও
আগামী ২৬ আগস্ট সিউলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইপিএসের আওতায় শ্রমিক পাঠানো এবং কোটা পূরণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকার প্রতিনিধি দল কোরিয়ার সহযোগিতা চেয়ে ভাষা শিক্ষার অভাব ও দক্ষতার মান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে। এছাড়া রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কোরিয়ান কোম্পানির বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়গুলোও আলোচ্যসূচিতে থাকবে।


বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ২০০৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়। এর পর ২০০৮ সাল থেকে ইপিএসের মাধ্যমে শ্রমিক প্রেরণ শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) কোরিয়ার শিল্প, নির্মাণ ও কৃষি খাতে শ্রমিক পাঠানোর কাজ করছে।
অপরদিকে, ঢাকা-সিউল রুটে সরাসরি ফ্লাইটের অভাবে নিয়মিত যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যমান এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট সংশোধনের কাজ চলমান, যা চুক্তি সম্পন্ন হলে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়ে আলোচনায় বসবে, যা দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।









