ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গত কয়েক মাসে অস্বাভাবিক একাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের সবার হাতের তালুতে ভয়াবহ দগদগে পোড়া ক্ষত। প্রথমে চিকিৎসকরা ধারণা করেছিলেন গরম কিছুর ছ্যাঁকা লেগেছে। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, তাদের হাত পুড়েছে রাসায়নিক পদার্থে—আর এর পেছনে রয়েছে এক প্রতারক ‘তান্ত্রিক বাবার’ কৌশল।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, ফেসবুক বিজ্ঞাপন দেখে বহু নারী এ তান্ত্রিকের খপ্পরে পড়েছেন। স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, প্রেমিককে বশ করা কিংবা পারিবারিক কলহ দূর করার আশায় তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী চিনি ও পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট একসঙ্গে হাতের মুঠোয় ধরে রাখতেই ভয়াবহ দাহ হয়। এভাবে মধ্যবয়সী গৃহবধূ থেকে অবিবাহিত তরুণী—অন্তত ৩০ জন নারী গত তিন মাসে পোড়ার শিকার হয়েছেন।
শুধু হাত পোড়ানোই নয়, প্রতারণার ফাঁদ আরও ভয়ংকর। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে তা ফাঁসের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করত প্রতারক। অনেক নারী হয়রানির শিকারও হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্প্রতি আব্দুস সবুর নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে, যার কাছে শতাধিক ভুক্তভোগীর স্পর্শকাতর ছবি ও ব্ল্যাকমেইলের তথ্য মিলেছে।
আরও
চিকিৎসকরা জানান, এই পোড়ার ক্ষত অ্যাসিড পোড়ার মতো ভয়াবহ। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে হাত বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি ও পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট একত্র করলে জারণ বিক্রিয়ায় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, যা হাতের চামড়া পুড়িয়ে দেয়। অথচ ‘আধ্যাত্মিক সমাধান’-এর নামে এসবই ছিল প্রতারণা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অনলাইনে প্রতারণার এমন নতুন কৌশল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জার ভয়ে মুখ না খুললে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।











