আগামী ১১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সরকারি সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি নোট বিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি (পিডি) শাহ আসিফ রহমান।

তিনি জানান, নোট বিনিময়গুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম, উচ্চশিক্ষা এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ একাডেমির মধ্যে সহযোগিতার চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব নোট বিনিময় ও সমঝোতা স্মারকে প্রধান উপদেষ্টা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সফরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বিডার চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলও অংশ নেবে।
আরও
সফরের প্রথম দিন ১১ আগস্ট মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। ১২ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর এবং সংবাদ সম্মেলন হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সম্মানে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজ এবং একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
শাহ আসিফ রহমান জানান, বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, পেশাদারদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে নানা বিষয় আলোচনায় আসবে। ১৩ আগস্ট সফরের শেষ দিনে প্রধান উপদেষ্টা নেগেরি সেমবিলান প্রদেশের রাজা এবং ইউনিভার্সিটি কেবাঙ্গাসান মালয়েশিয়ার চ্যান্সেলরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেবেন।
এ সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষাখাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং আরসিইপি চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে।












