স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ স্মরণে আজ শনিবার (২ আগস্ট) পালিত হচ্ছে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস’। রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আন্দোলনে সম্পৃক্ত প্রবাসীরা। সেখানে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে এবং প্রবাসীদের আন্দোলনের ওপর নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই প্রবাসীরা বিশ্বের নানা দেশে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, প্যারিসের রিপাবলিক চত্বর, টোকিও, সিউল, মিলান, বার্লিন, কুয়েত, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় মুখরিত হয় প্রবাসীদের স্লোগানে। মধ্যপ্রাচ্যের কঠোর আইন উপেক্ষা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রবাসীরা বিক্ষোভে অংশ নেন, যার জেরে বহুজন আটক হন।
বিক্ষোভের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হওয়া ১৮৮ জন প্রবাসী কর্মীকে ধাপে ধাপে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে সরকার। এর মধ্যে অনেককে দীর্ঘ মেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আমিরাত সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সাজা মওকুফ করান। এখনো আমিরাতে ২৩ জন প্রবাসী আন্দোলনের দায়ে কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁদের পরিবার।
আরও
দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৮৬ জন কর্মীকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। দেশে ব্যবসা শুরুর জন্য সহজ শর্তে ঋণ, আগের ঋণ পরিশোধে সহায়তা এবং পুনরায় বিদেশযাত্রায় সহায়তা চেয়েছেন অনেকেই।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করেছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বীকৃতি শুধু প্রতীকী নয়, তাঁদের ভবিষ্যত জীবন গড়ার পথেও সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।









