বাংলাদেশ সরকার এখন বিদেশে বৈধভাবে কাজের জন্য স্বচ্ছ, দালালমুক্ত এবং নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। এর ফলে লাখো মানুষ কম খরচে প্রতারণামুক্তভাবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৫ সালে এই কার্যক্রম আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে, যা বিদেশগামী কর্মীদের জন্য এনেছে নতুন আশার আলো।
বর্তমানে সরকার তিনটি মূল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মী পাঠাচ্ছে: BOESL, BMET এবং “আমি প্রবাসী” অ্যাপ। BOESL একটি সরকারি মালিকানাধীন একমাত্র রিক্রুটিং এজেন্সি, যারা দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সৌদি আরব, রোমানিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে শ্রমিক প্রেরণ করে। অন্যদিকে, BMET প্রবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণ, রেজিস্ট্রেশন ও সহায়তা প্রদান করে। “আমি প্রবাসী” অ্যাপটি বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত সব তথ্য, আবেদন ও অভিযোগের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিদেশ যেতে হলে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদেরকে BOESL বা BMET ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এরপর সরকার অনুমোদিত ট্রেনিং সেন্টার থেকে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে হয়। নির্বাচিত হলে মেডিকেল চেকআপ ও ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত ফ্লাইটে যাত্রা করা হয়। বিদেশযাত্রার জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও ভাষা দক্ষতার সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
আরও
সরকার নাগরিকদের বারবার সতর্ক করে বলছে—কোনো অবস্থাতেই দালালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। আবেদন প্রক্রিয়া হবে সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট বা অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করে। কেউ অতিরিক্ত টাকা চাইলে “আমি প্রবাসী” অ্যাপ বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশ যাওয়ার মোট আনুমানিক খরচ হতে পারে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। এই খরচে প্রশিক্ষণ, মেডিকেল, ভিসা ও বিমানের টিকিট অন্তর্ভুক্ত। সরকারি সহায়তা নিতে ও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.boesl.gov.bd অথবা www.bmet.gov.bd। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন হেল্পলাইন নম্বরে: ০৮০০০১০২০৩০ (টোল ফ্রি)।
২০২৫ হতে পারে আপনার স্বপ্নপূরণের বছর—সঠিক পথে এগিয়ে, দক্ষতা অর্জন করে, দালালমুক্ত ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করুন।
https://www.youtube.com/watch?v=jSI5b-xphJk











