ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলার একটি প্রত্যন্ত ধানক্ষেতে আকাশ থেকে উড়ে আসা গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যানারটি মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের নাম ও দলীয় প্রতীকসংবলিত। শুক্রবার আসামের নারায়ণপুর থানার অধীন লেতেকুজান গ্রামে অভাবনীয় এই ঘটনা ঘটে। কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানার এভাবে উড়ে এসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে লেতেকুজান গ্রামের এক কিশোর বাড়ির পাশের মাঠে নিজের গরু চরাতে যায়। সেখানে হঠাৎ সে আকাশ থেকে বিশাল আকারের গ্যাসভর্তি কয়েকটি বেলুন নিচে নেমে আসতে দেখে। অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখে কৌতূহলবশত সে বেলুনগুলোর পিছু নেয়। একপর্যায়ে বেলুনগুলো একটি বাঁধের কাছে পুরোপুরি মাটিতে নেমে এলে সেগুলোর সঙ্গে একটি বড় ব্যানার বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায় ওই কিশোর। এরপর সে বেলুনসহ ব্যানারটি সংগ্রহ করে সযতনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। ভিনদেশের রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সম্বলিত এই ব্যানার পাওয়ার খবরটি দ্রুত পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ তা একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
উদ্ধার হওয়া ফ্লেক্সে ছাপানো ওই ব্যানারটিতে লেখা বার্তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি মূলত জাতীয়তাবাদী যুবদলের মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছিল। ব্যানারটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি স্পষ্টভাবে ছাপানো ছিল। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা গেছে, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঠিক একই ধরনের দলীয় ব্যানারসংবলিত বিশালাকার গ্যাস বেলুন আকাশে ওড়ানো হয়েছিল। বাতাসের অনুকূল গতি এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে মৌলভীবাজার সীমান্ত থেকে ওড়ানো এমন কোনো বেলুন ভাসতে ভাসতে আসামে গিয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও
ভিনদেশি রাজনৈতিক দলের ব্যানার পাওয়ার বিষয়টি কিছুটা স্পর্শকাতর হওয়ায় গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে আসাম পুলিশের ঢালপুর ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত লেতেকুজান গ্রামে ছুটে যায়। তারা ওই কিশোরের বাড়ি থেকে বেলুন ও ব্যানারটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ওড়ানো এই বেলুনগুলো ঠিক কীভাবে, কোন পথে এবং কতক্ষণ বাতাসে ভেসে সীমান্ত পেরিয়ে আসামের ওই সুনির্দিষ্ট গ্রামটিতে পৌঁছাল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নাউ-এর এক প্রতিবেদন থেকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নাউ











