এক দশকের প্রবাস জীবন কাটিয়ে স্বদেশে ফিরেই নিখোঁজ হয়েছেন রাজ্জাক মোল্ল্যা (৪৯) নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসী। তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান, পরিবার, স্বজন-পরিজনের মাঝে এখন চলছে কান্নার রোল। গত ১০ দিনেও মেলেনি তার খোঁজ, ঘটনা ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। নিখোঁজ ওই প্রবাসী উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামের মুন্নাফ মোল্ল্যার ছেলে।
জানা গেছে, প্রবাসী রাজ্জাক ৩ মাসের ছুটিতে বিমানের ফিরতি টিকিট নিয়েই এসেছিলেন প্রিয় জন্মভুমিতে। তবে এখন তিনি নিখোঁজ, তার পরিবার থানায় একটি জিডি দায়ের করলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। এদিকে নিখোঁজ ঘটনার সাথে এক নারীসহ গ্রামের স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে সন্দেহ করছে প্রবাসীর পরিবার ও স্বজনরা, তবে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পুলিশের জোরালো পদক্ষেপের দাবি পরিবার সহ এলাকাবাসীর।
শৈলকুপা থানায় দায়েরকৃত জিডি সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপার ১০ নং বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামের রাজ্জাক মোল্ল্যা এক দশক আগে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান মালয়েশিয়া। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে তিনি স্বদেশে নিজ বাড়ি শৈলকুপার বারইহুদা গ্রামে বাড়িতে আসেন। বাড়ি ফেরার প্রায় দেড় মাস পর প্রবাসী রাজ্জাক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১ জানুয়ারি সকালের দিকে তার বাড়ির পাশে পেঁয়াজ দেখতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর পরিবারটি এলাকাসহ আত্মীয়-স্বজনদের কাছে খুঁজতে থাকেন তবে কোনো হদিস করতে না পেয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের ভাই রাজু আহমেদ শৈলকুপা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন।
আরও
প্রবাসী রাজ্জাকের চাচাতো ভাই বাবলু মোল্ল্যা জানান, ‘আমি ১৮ বছর মালয়েশিয়া ছিলাম। পরবর্তীতে ১০ বছর আগে রাজ্জাককে মালয়েশিয়া নিয়ে যাই। রাজ্জাক মালয়েশিয়াতে পেনাং শহরে একটি এসিড কারখানায় ড্রাম পরিষ্কারের কাজ করতেন। দীর্ঘ ১০ বছর পরে দেড় মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং বিমানের ফিরতি টিকিট নিয়ে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।’ বাবলু বলেন, ‘হঠাৎ এমন নিখোঁজের ঘটনায় প্রশাসনের তেমন তৎপরতা নেই। ফলে, যতই দিন যাচ্ছে তার ফিরে পাবার আশা ফিকে হয়ে যাচ্ছে।’
প্রবাসী রাজ্জাকের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, ‘ঘটনার দিনে সকালে আমার স¦ামী বাড়ির পাশে পেঁয়াজ ক্ষেতে যায় ঘুরতে এবং এক ব্যক্তির সাথে কথা বলে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি এসে আবার সেখানে যায়, এর পরে আর ফিরে আসেনি।’ তিনি বলেন, ‘দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে আমাদের সংসার। কারো সাথে কখনো বিরোধ ছিল না আমাদের। তবে লাবনী খাতুন নামের এক প্রতিবেশী নারী গত কয়েকদিন আগে আমার স্বামীকে নিয়ে হুমকি-ধামকি আর বকাবাজি করে এবং সুখে থাকতে দেবে না বলে হুমকি দিয়েছিল।’
তবে লাবনী খাতুন জানিয়েছে, প্রবাসী রাজ্জাক যখন দেশে আসে তখন প্রতিবেশী হিসাবে একবার কথা হয়েছে। তবে তাদের বাড়ির কারো হুমকি-ধামকি দেননি। তিনি এসবের কিছুই জানেন না বলে জানান।
প্রবাসী রাজ্জাকের দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে রুপালী খাতুন জানায়, ‘ঘটনার দিন সকালে বাবার সাথে বসে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করেছি। বাবা আমাকে অনেক ভালবাসত। বাবাকে অনেকদিন পর কাছে পেয়েও হারিয়ে ফেলেছি।’ প্রবাসী রাজ্জাকের বাবা মুন্নাফ মোল্লা বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমাদেও একটাই দাবি তারা যেন ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বের করে দেয়, সে কি বেঁচে আছে না মেরে ফেলল কিছুই জানিনা।’ চোখের সামনে তার ছেলেকে কারা নিয়ে গেল এমন প্রশ্ন তার।
থানায় নিখোজ ডায়েরি করা প্রবাসী রাজ্জাকের ভাই রাজু আহম্মেদ জানান, ‘পুলিশের কাছে নিখোঁজের বিষয়ে জানানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আমার ভাইকে খুঁজে পায়নি, এতে করে আমাদের পরিবারে আতঙ্ক বেড়েছে। আমরা চাই পুলিশ আমার ভাইকে দ্রুত জীবিত অবস্থায় আমাদের কাছে ফিরে দিবে।’
প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক নিখোঁজের ঘটনায় শৈলকুপা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন জানান, ‘জিডির পর থেকে ওই প্রবাসীর খোঁজে এলাকায় ব্যাপক অভিযান এবং পুলিশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া লাবনী নামের যে নারী সহ একটি চক্রকে ঘিরে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, সে ব্যাপারেও অনুসন্ধান চালিয়ে একাধিক মোবাইল জব্দ করা হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহ চলছে।’ তিনি বলেন, প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাককে ফিরে পাবার ব্যাপারে পুলিশ আশাবাদী।











