জাতীয় নির্বাচনের পর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ তাকে ‘অপমানিত’ করেছে। রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচন সম্পন্ন হলেই সরে যেতে চান।
রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি কার্যত আনুষ্ঠানিক হলেও, শেখ হাসিনা ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে গত আগস্টে পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করলে এবং সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনই ছিলেন দেশের সর্বশেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি; প্রেস বিভাগ রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; এবং গত সেপ্টেম্বরে দেশের সব দূতাবাস থেকে রাতারাতি তার প্রতিকৃতি অপসারণ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে তিনি ‘গভীরভাবে অসম্মানিত’ বোধ করেছেন বলে মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, প্রতিকৃতি সরানোর বিষয়ে তিনি ইউনূসকে চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
আরও
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, এবং সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে সামরিক হস্তক্ষেপ বা ক্ষমতা গ্রহণের কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রথমদিকে কিছু ছাত্র সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো প্রধান রাজনৈতিক দল এ দাবি তোলেনি।
বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে থাকতে পারে। শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন।
সূত্র: রয়টার্স











