কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় কুলখানি থেকে ফেরার পথে সাদিয়া আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেবর ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছোট হরিপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সাদিয়া সৌদি প্রবাসী হাবিবুর রহমানের স্ত্রী এবং এক সন্তানের জননী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, শুক্রবার বিকেলে চাচাতো দাদার কুলখানি অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাদিয়া। এ সময় তার দেবর রাব্বি হঠাৎ উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে তাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেখানে শাশুড়ি রহিমা বেগম, শ্বশুর মোস্তফা ও ননদ সোনালী আক্তারসহ পরিবারের আরও কয়েকজন মিলে তাকে হত্যা করে—এমন অভিযোগ করেন নিহতের মা রুবি আক্তার।
পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সাদিয়ার ওপর নির্যাতন চলছিল। স্বামী বিদেশে থাকাকালীন পরকীয়ার বিষয়টি জানার পর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি দেবর রাব্বি অনৈতিক প্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি জানায় পরিবার।
আরও
নিহতের স্বজন নাজমুল হাসান অভিযোগ করেন, তারা হাসপাতাল থেকে লাশ নিতে গেলে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, কুলখানি থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় দেবর রাব্বি ক্ষিপ্ত হয়ে সাদিয়াকে বাড়ি নিয়ে যায়, কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর আসে। বিষয়টিকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে দ্রুত সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হলে ননদ সোনালী আক্তার ও আমেনাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বাকি অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











