পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার অচল সার্ক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট গঠনের প্রস্তাব করেছে। বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেন, ভারতের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনের সমন্বয়ে বিকল্প সহযোগিতামূলক জোট গঠনের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দারের বক্তব্যে ইঙ্গিত, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার কারণে আঞ্চলিক উন্নয়নকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
গত জুনে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও জীবনমান বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও তখন এটিকে ‘তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়’ বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, বিশ্লেষকদের মতে, সার্কের অচলাবস্থা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ—বিশেষ করে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন—এ নতুন প্রস্তাবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
ইশহাক দার বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা কোনো দেশের একপাক্ষিক অবস্থানের কাছে জিম্মি হওয়া উচিত নয়। তিনি দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে গত ১১ বছর ধরে কোনো কার্যকর সংলাপ হয়নি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পাকিস্তান এমন এক আঞ্চলিক কাঠামো চায় যেখানে বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ দ্বন্দ্ব সমাধান ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে।
আরও
তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ প্রস্তাবটির বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রাবেয়া আক্তার মনে করেন, সার্কের স্থবিরতা পাকিস্তানকে নতুন সহযোগিতার পথ খুঁজতে উৎসাহিত করেছে, তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থির মতে, নতুন জোট গঠনের সুযোগ থাকলেও এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যা ২০০ কোটির বেশি হলেও দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের হার মাত্র ৫ শতাংশ, যা আসিয়ান অঞ্চলের তুলনায় অত্যন্ত কম। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, নানাবিধ বাধা দূর করতে পারলে অঞ্চলটিতে বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রস্তাব আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন বিতর্ক ও সম্ভাবনা উভয়ই তৈরি করেছে।










