ইতালিতে পৌঁছে জীবিকা বদলে যাবে—এ আশায় দারিদ্র্যপীড়িত বহু যুবক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে, আর সেই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারীদের শক্তিশালী দালালচক্র। যাত্রার আগে নিরাপদ যাত্রা, দ্রুত ইতালি পৌঁছনো এবং চাকরির নিশ্চয়তার মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলেও লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই এসব আশ্বাস পরিণত হচ্ছে ভয়াবহ প্রতারণা, শোষণ ও অমানবিক নির্যাতনে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা যায়, মাদারীপুরের শিবচরের তিন যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওটি পাঠিয়ে পাচারকারীরা তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে বলে জানা গেছে। নির্যাতনের শিকার তিনজন—শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের নাওয়ারা চর শেখপুর এলাকার আলমাছ, সজিব ও সবুজ। ভিডিওর দৃশ্য দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তারা লিবিয়ার মরুভূমি কিংবা সীমান্তবর্তী কোনো স্থানে অবৈধভাবে আটক রয়েছেন।
নির্যাতনের শিকারদের পরিবার জানিয়েছে, পাচারকারীরা বারবার কল করে মুক্তিপণ দিতে চাপ দিচ্ছে এবং মুক্তিপণ না দিলে আরও নিষ্ঠুর নির্যাতন বা জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। পরিবারের লোকজন ইতোমধ্যে জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে সন্তানদের বিদেশযাত্রার ব্যয় বহন করেছিলেন। এখন মুক্তিপণ দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই বলে তাঁরা জানান, আর তাই সন্তানদের জীবনহানি নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
আরও
গ্রামে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, ইতালি যাত্রার মোহে প্রতিনিয়ত অনেক তরুণ দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এই তিন যুবকের ঘটনা সেই মানবপাচার নেটওয়ার্কের নির্মম বাস্তবতা আরও একবার সামনে এনেছে।
শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক চক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।











