জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ যে নতুন অনুরোধ জানিয়েছে, ভারত এবার সেই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি নথিটি দেশের প্রচলিত বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
বুধবার দিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল এ মন্তব্য করার পরই প্রশ্ন ওঠে—ভারত কি এবার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে, নাকি আগের মতোই অনুরোধটি কার্যত অনিশ্চিত অবস্থায় ঝুলে রইল? এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বক্তব্যে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; বরং দিল্লি মূলত আগের অস্বচ্ছ অবস্থানেই রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রণধীর জয়সওয়ালের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ভাষা আগের বক্তব্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ—বিশেষ করে তিনি যখন বলেন, ভারত বাংলাদেশের শান্তি, অন্তর্ভুক্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখবে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার মতে, ভারতের এই অবস্থান আসলে ইঙ্গিত করছে যে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থাকা উচিত এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর রায় অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ বলে দিল্লি মনে করছে।
আরও
গত বছরের জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং তারপর থেকে তিনি দেশটির একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দুটি পৃথক চিঠি পাঠানো হলেও, এবারই প্রথম দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের কূটনৈতিক ভাষায় ‘পর্যালোচনা চলছে’—এ ধরনের বাক্য ব্যবহৃত হলেও প্রকৃতপক্ষে দিল্লি এখনই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হয় না। ফলে অনুরোধটি আপাতত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেল।












