অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খোলা দুটি লকার থেকে ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এনবিআর-এর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ দল লকার দুটি খোলে। এনবিআর ও আদালত সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সিআইসি পূর্বেই লকারগুলো জব্দ করেছিল। অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় থাকা ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার—যেগুলো ১৭ সেপ্টেম্বর জব্দ করা হয়—সেখান থেকেই উল্লেখিত স্বর্ণ পাওয়া যায়। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় শেখ হাসিনার আরও একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করেছিল গোয়েন্দা ইউনিট।
এদিকে চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। একই রায়ে দুই আসামির সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই জব্দ লকারগুলো খোলা হচ্ছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।
আরও
গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের কর ফাঁকি, দুর্নীতি ও সম্পদ অর্জন–সংক্রান্ত নানা অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্যাংকে তার নামে থাকা সম্পদ, লকার ও হিসাবগুলো পর্যায়ক্রমে জব্দ করা হচ্ছে।
এনবিআর বলছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণসহ সব জব্দ সম্পদ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।











