হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে গত ১৮ নভেম্বর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি নাশকতা নয়; বৈদ্যুতিক আর্কিং ও শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কার্গো শেডের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত কয়েকটি কুরিয়ার খাঁচার মধ্যবর্তী অংশে প্রথম আগুন লাগে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, তুরস্ক থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল, বুয়েটের গবেষক, অগ্নিনির্বাপক বিশারদ এবং সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের রিপোর্টের ভিত্তিতেই আগুনের উৎস নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তে ৯৭ জন সাক্ষীর মৌখিক ও লিখিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আরও
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুরিয়ার শেডে বিভিন্ন এজেন্সির জন্য তৈরি ৪৮টি লোহার খাঁচার ছোট অফিস ছিল। এসব অফিসে ছিল না কোনো অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা—ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার বা হাইড্রেন্ট। তার ওপর দাহ্য পদার্থ যেমন—পলিথিনে মোড়ানো কাপড়, রাসায়নিক দ্রব্য, সংকুচিত বোতলের বডি স্প্রে, ইলেকট্রনিকস, ব্যাটারি এবং ওষুধজাত কাঁচামাল—অসতর্কভাবে সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।


তদন্তে আরও উঠে আসে যে, ২০১৩ সাল থেকে এ কার্গো এলাকায় সাতটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যদিও এসব ঘটনার অনেকগুলোই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারিত হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত এবং বর্তমান ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
অগ্নিনির্বাপণের দক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিমানবন্দরের কার্গো শেডসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র অপারেটর কর্তৃপক্ষ গঠন করা। বেবিচককে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক দায়িত্বে রাখার প্রস্তাবও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।












