নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে বেলায়েত হোসেন নামে এক ব্যক্তি একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দ্বৈত পরিচয় ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চলছে নানা আলোচনা।
জানা গেছে, বেলায়েত হোসেন সমাজ–সহিলদেও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি পদও ধরে রেখেছেন। জয়পুর গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে বেলায়েত—কিভাবে দুই দলের পদে বহাল থাকলেন—তা নিয়ে দুই দলের নেতাদের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, বেলায়েত দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সর্বশেষ অনুমোদিত কমিটিতে তিনি ২০২১ সালে সহসভাপতি নির্বাচিত হন এবং গত ১৯ জুন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে উপনির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবেও ভোট দেন। তবে বেলায়েত দাবি করেন, ২০২১ সাল থেকে তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন এবং এখন ওই দলের ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির কমিটি থেকে নাম বাদ দেওয়ার অনুরোধ করলেও লিখিত আবেদন না করায় তাঁর নাম বাদ হয়নি বলে জানান তিনি।
আরও
জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি আরও সুস্পষ্ট। ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান জানান, ২০২০ সাল থেকেই বেলায়েত তাঁদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালে বেলায়েত ‘জামায়াত ট্যাগে’ গ্রেপ্তার হলে বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেলেও জামায়াত তার পাশে দাঁড়ায়, আর সেই কৃতজ্ঞতাবশতই তিনি জামায়াতে যোগ দেন।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা বলছেন, বেলায়েতের জামায়াতে নেতৃত্বের বিষয়টি নতুন করে তাঁদের জানা গেছে এবং পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া জানান, তাকে বহিষ্কারের বিষয়ে কথা চলছে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।











