জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে পলাতক দুই আসামিকে জুলাই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় দেওয়া ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুসারে তাদের ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য “অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব”।
এদিকে, একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার আরেক আসামি ও পরে রাজসাক্ষী হিসেবে তথ্য প্রদানকারী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজসাক্ষীর সহযোগিতা মামলার সত্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও
এর আগে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
রায় ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভারত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং পলাতক আসামিদের প্রত্যার্পণে সহযোগিতা করবে।











