জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়।
এই মামলার অন্য দুই আসামি—ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল—পলাতক রয়েছেন। মামলার রায় ঘোষণা হবে সোমবার বেলা ১১টার পর। ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় প্রদান করবেন।
রায় কেন্দ্রিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
আরও
১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করে। তিন সদস্যের বেঞ্চে চেয়ারম্যান ছাড়াও আছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য–জেরা সম্পন্ন হয় এবং অতিরিক্ত ৯ দিন চলে রাষ্ট্রপক্ষ ও ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক। গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের সমাপনী বক্তব্য শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। তবে রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ মামুনের খালাস দাবি করেছেন। পাঁচটি অভিযোগ নিয়ে গঠিত মামলার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রায় ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যেখানে সাক্ষী তালিকা, জব্দতালিকা, তথ্যসূত্র ও শহীদদের নামসহ বিস্তৃত নথি যুক্ত রয়েছে। গত ১২ মে তদন্ত সংস্থা মামলার প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়।












