ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় তিন দশক পরও শুরু হয়নি খুলনার খানজাহান আলী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মনোযোগের অভাবে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে।
মোংলা সমুদ্রবন্দর, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং আশপাশের শিল্পকারখানার চাহিদা বিবেচনায় ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মোংলা–খুলনা মহাসড়কের পাশে ফয়েলা এলাকায় বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে ২০১১ সালে ৬২৭ একর জমি অধিগ্রহণ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে প্রকল্প অনুমোদন হলেও এতদিনে সীমানাপ্রাচীর ও আংশিক মাটি ভরাট ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আরও
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিমানবন্দর নির্মাণ বিলম্বিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প ও রপ্তানি খাত ক্ষতির মুখে পড়ছে। খুলনার রহিম ফিশ প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাসান (পান্না) জানান, কক্সবাজার থেকে অভিভাবক চিংড়ি আনতে তাদের একাধিক বিমানবন্দর বদল করে যশোর হয়ে সড়কপথে খুলনায় পৌঁছাতে হয়। দীর্ঘ পরিবহনের কারণে প্রায়ই মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ব্যবসা লোকসানে পড়ে। তিনি দ্রুত খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান।
মোংলা বন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেড়েছে; তবে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হলে এই অগ্রগতি টিকবে না। বন্দরসংলগ্ন এলাকায় বিমানবন্দর চালু হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বহুগুণে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। একই কথা জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (বোর্ড ও জনসংযোগ) মাকরুজ্জামান মুন্সি—বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিমানবন্দর অপরিহার্য।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি হাসান মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের বিকাশে পরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা জরুরি, আর এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান পিপিপি ভিত্তিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রকল্পটিকে অকার্যকর মনে করে, যার ফলে পরিকল্পনাটি কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
দীর্ঘ অধরা এই বিমানবন্দর বাস্তবায়ন এখনো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অপেক্ষার প্রহর বাড়িয়ে দিচ্ছে।











