রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। আগামীকাল ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিরাজ করছে টানটান পরিস্থিতি। একদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের গণদাবি কর্মসূচি, অন্যদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচি—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, “কী ঘটতে যাচ্ছে আগামীকাল?”
আন্দোলনরত আটটি দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীতে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ১৩ নভেম্বর সারাদেশে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা। এছাড়া ১৪ নভেম্বর জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং ১৬ নভেম্বর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে জনগণ এবার রাজপথে নিজেদের অধিকার আদায় করবে ইনশাআল্লাহ।”
আরও
অন্যদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ তাদের লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে রাজধানী ও বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হেলমেট ও মাস্ক পরে হামলার আশঙ্কায় চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। কোনো সন্ত্রাস সহ্য করা হবে না।”
এদিকে রাজধানীজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি। সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারাদেশের সব মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো উদ্বেগ কাটেনি। রাজনৈতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে তারা। এখন সবার দৃষ্টি ১৩ নভেম্বরের দিকে—যেদিন নির্ধারিত হতে পারে দেশের রাজনীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনা।











