মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ বাংলাদেশের কর্মীদের প্রধান গন্তব্য হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। অবৈধ অভিবাসন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতির কারণে একাধিক দেশ ভিসা প্রদান বন্ধ বা সীমিত করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন মোট ৬৩ হাজার ৯৫২ জন প্রবাসী।
২০১২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেয়, যা এখনও পুরোপুরি পুনরায় চালু হয়নি। বাহরাইন, ওমান ও লিবিয়াও দীর্ঘদিন ধরে নতুন শ্রমিক গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া অনিওমানয়মিত হয়ে পড়েছে, যা কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
ওমান সরকার তাদের “ওমানাইজেশন” নীতির অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শ্রমভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তবে দূতাবাসের উদ্যোগে বিশেষ বিবেচনায় ১৩ ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করা হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাষা দক্ষতার অভাব, শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিদেশি শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতিযোগিতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
আরও
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়বে এবং দেশে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অদক্ষ কর্মীদের চাহিদা কমছে। যদি শ্রমবাজার বন্ধের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।











