মাদারীপুরের এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে স্কুলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, নারীদের কুপ্রস্তাব, পরকীয়া, পুলিশ দিয়ে হয়রানি এবং অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তার অশ্লীল কথোপকথন, ভিডিও কল রেকর্ড এবং ছবি ফাঁস হয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মেরাজুল ইসলাম রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের ফার্নিচার পলিশ মিস্ত্রি সিরাজ বেপারীর ছেলে।
এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন যে, মেরাজুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ দাবি করতেন। এ ছাড়া, এনসিপিতে যোগদানের আগে তিনি চারটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও নারীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার কারণে বহিষ্কৃত হন। বর্তমানে তিনি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রিতে নিয়োজিত রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরাজুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নাম মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ফাঁস হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। একজন নারী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে, মেরাজুল মাদক ব্যবসা ও সেবন করেন এবং দীর্ঘ তিন বছর সম্পর্ক রাখার পর ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়েছে।
আরও
থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বেগ জানিয়েছেন, মেরাজুল স্কুলের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ তুলে নেওয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। তাকে চারটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ বালু ব্যবসা ও হামলার ঘটনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
মেরাজুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাদারীপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নেবে। রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












