সরকার বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে আধুনিকীকরণ ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে চীনা নির্মিত ২০টি জে–১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ৪.৫ প্রজন্মের ফাইটার জেট সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি, যা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। চুক্তি সরাসরি ক্রয় বা দ্বিপক্ষীয় সরকারের চুক্তি (G2G) পথেই সম্পন্ন হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী বিমানের একক মূল্য প্রতিটি প্রায় ৬ কোটি ডলার হিসেবে ধরা হয়েছে; এতে ২০টি বিমানের খরচ প্রায় ১২০ কোটি ডলার হবে। স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, পরিবহনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে আরও প্রায় ৮২ কোটি ডলার যোগ করা হবে। বীমা, ভ্যাট, কমিশন ও পূর্তকাজসহ সব কটি উপাদান মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে হিসাব করা হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী টুকস টাকতার পরিশোধব্যবস্থা ১০ বছরের মধ্যে পুরোপুরি পুরণ করা হবে।
গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল; এরপর জয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে যে দলটি চুক্তিপত্র খসড়া, দরকষাকষি ও টার্মস অব পেমেন্ট নির্ধারণের কাজ করবে। কমিটি জিটুজি পদ্ধতিতে কেনা সমীচীন হবে কি না তাও যাচাই করবে এবং চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবে। চুক্তিতে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার শর্তও রাখা হবে।
আরও
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএএফের জনশক্তি ও বহর আধুনিকায়নে জে–১০ সিরিজ যে অবদান রাখতে পারে তা উল্লেখযোগ্য। তবে সামরিক সরঞ্জাম কেনার সময়ে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব-প্রসঙ্গ বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শও উঠেছে; বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক শক্তি সংঘাতের প্রেক্ষিতে একটি উৎস থেকে বড় ধাঁচের সামরিক কেনা কড়া কূটনৈতিক মূল্যায়নের দাবিতেও রূপরেখা রয়েছে।











