দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে এয়ার গার্ড বাংলাদেশ (এজিবি)। গত ৩১ আগস্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যা এজিবি বাহিনী গঠনের মূল দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে।
তবে নতুন বাহিনী গঠনের খবর প্রকাশিত হতেই বেবিচকের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এভসেক সদস্যরা আগেও এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের চেষ্টা প্রতিহত করেছিল।
এ বিষয়ে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা চেয়ারম্যান কোনও মন্তব্য করেননি। বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানিয়েছে, “আমার এই বিষয়ে কিছু জানা নেই, সরাসরি স্যারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কমিটির সভাপতি হলেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) এবং সদস্য সচিব উপসচিব (প্রশাসন-১)। কমিটিতে ১২ জন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন, বিমান ও পর্যটন, অর্থ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের প্রতিনিধি আছেন।
আরও
এদিকে এভসেকের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকের পদ স্থায়ী হয়নি এবং বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অনেকে চাকরি ছাড়ছেন। তারা মনে করছেন, নতুন বাহিনী গঠনের প্রয়োজন নেই এবং প্রয়োজনে আবারও আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত এবং নতুন বাহিনী গঠন ফলপ্রসূ হবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ সিভিল অ্যাভিয়েশনের মতামত ও আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
সাবেক বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মফিদুর রহমান বলেন, নতুন উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও কমিটিতে সিভিল অ্যাভিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। তিনি যোগ করেন, আইকাওয়ের নিয়ম মেনে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া উচিত।










