চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল খাতে বৈষম্য দূরীকরণ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার বিকেল ৫টা থেকে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতীকী গায়েবানা জানাজাও আদায় করেন।
জানাজা শেষে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখেন। তারা জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের আলোচনার সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেওয়ায় অফিস ছুটির সময় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। যানজটের কারণে অনেকেই সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকৌশল খাতে এখনও কোটা ও সিন্ডিকেট প্রথা বহাল রয়েছে। এতে প্রকৃত মেধাবী বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ অযোগ্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে যাচ্ছেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাঈদ আফ্রিদি বলেন, ডিপ্লোমাধারীরা অবৈধভাবে দশম গ্রেড দখল করে রেখেছে এবং নবম গ্রেডেও তাদের আধিপত্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুধুমাত্র মেধাভিত্তিক হতে হবে।
আরও
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাবাবা তামান্না বলেন, যোগ্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ অযোগ্যরা পদে বসে দেশের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি চান, যোগ্য প্রকৌশলীরাই দায়িত্ব পাক, যাতে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন—ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কেবল ‘ডিপ্লোমা’ হিসেবে চিহ্নিত করা, বিএসসি ছাড়া কাউকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি না দেওয়া এবং দশম গ্রেড পরীক্ষার মাধ্যমে সবার জন্য উন্মুক্ত করা। তারা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় করুক, কিন্তু আন্দোলনের নামে জনগণকে জিম্মি করা ঠিক নয়।











