সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক যুবককে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করেছেন সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হেমাচন্দ্র। অঞ্জন শিবারাসা নামের ওই যুবককে গত জুলাই মাসে সৌদি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। ফেসবুকে বিতর্কিত একটি মন্তব্যের স্ক্রিনশট তাঁর নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর পরই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, হিন্দুদের একটি শোভাযাত্রায় এক মুসলিম ব্যক্তি কুকুরকে লাথি মারছেন—এমন একটি ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে হিন্দু দেবীকে নিয়ে একজন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই রেশ ধরে অঞ্জন তামিল ভাষায় মহানবীকে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করে বসেন। যদিও তিনি দ্রুতই মন্তব্যটি মুছে ফেলেন, তবে তার আগেই কেউ সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে তাঁর নিয়োগকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে নিয়োগকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং মোবাইল ফোন জব্দ করে। শুরুতে আল-আহসার একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ রিয়াল জরিমানা করলেও, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের আপিলে মামলাটি শরিয়া আইনের অধীনে নিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এই চরম সাজার পর অঞ্জনের মা তাঁর ছেলের প্রাণভিক্ষা চান এবং শ্রীলঙ্কা সরকারও বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের মানবিক আবেদন ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন। অঞ্জনের আইনজীবী ফাইজার মুস্তাফা নিশ্চিত করেছেন যে মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে নতুন করে কী সাজা দিয়েছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।







