ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় যখন সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বিপর্যস্ত, ঠিক তার কয়েক দিন আগে থেকেই সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ রেখেছিল দেশটির সরকার। গত কয়েক দিনে রিয়াদ বিমানবন্দরে চার দফা হামলায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। ভয়াবহ এসব হামলার আগে কেন নাগরিকদের জন্য কোনো সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে সতর্কবার্তার এই আকস্মিক অনুপস্থিতি সৌদির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিদেশি অতিথিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত দেশের ভেতরে ও বাইরে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিস্থিতির ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই সৌদি সরকার এই নীরবতার কৌশল নিয়েছিল। যেখানে কাতার, বাহরাইন বা কুয়েতের মতো প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো যেকোনো হামলার আগে মোবাইল ফোনে বার্তা বা সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করে আসছে, সেখানে গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সৌদির আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থাটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পশ্চিমা এক মিত্র সরকারের প্রশ্নের জবাবে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, মধ্যরাতে সতর্কবার্তার কারণে নাগরিকদের ঘুমের ব্যাঘাত এবং জনজীবনে বিরক্তি তৈরি হওয়ায় তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তবে সরকারের এই দ্বিমুখী নীতি বাস্তবে হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সৌদি শিক্ষাবিদ সুলতান আলামের মতে, সৌদি সরকার একই সঙ্গে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে চাইছে, আবার বহির্বিশ্বে স্বাভাবিকতার আস্থাও ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার কৌশলটি সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্টো উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। দেশটিতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনিও মনে করেন, জনজীবনে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে রিয়াদ যে গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়েছে, তা প্রকারান্তরে নাগরিকদের মনে হামলার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার বোধকে আরও উসকে দিয়েছে।
আরও
এদিকে, টানা কয়েক দিনের প্রাণঘাতী হামলা ও তীব্র সমালোচনার মুখে দীর্ঘ বিরতির পর সোমবার (১২ অক্টোবর) আবারও রাজধানী রিয়াদসহ দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। তবে সাম্প্রতিক বিমানবন্দর হামলার চাপেই এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। এর পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার কোনো দৃশ্য, ধ্বংসাবশেষের ছবি বা গুজব ছড়ানোর ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ, যা অমান্য করলে সৌদি আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।










