সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বর্তমানে স্থানীয় নারীদের জয়জয়কার। আধুনিক ভিশন ২০৩০-এর হাত ধরে দেশটির অফিস-আদালত ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এখন সৌদি নারীদের দখলে। তারা ভালো বেতনে কাজ করলেও এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশি নারীদের ক্ষেত্রে। ভাষাগত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবে আরবের এই আধুনিক কর্মসংস্থানে তারা শুধু পিছিয়েই পড়ছেন না, বরং চরম অনিশ্চয়তা ও বিপাকে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘ফ্রি ভিসা’ ও দালালদের প্রলোভনে পড়ে সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি নারীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেককে গৃহকর্মীর কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ঠাঁই হচ্ছে অন্ধকার জগতে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রিয়াদ ও দাম্মামের মতো শহরগুলোতে এক হাত থেকে অন্য হাতে বিক্রি করা হচ্ছে বাংলাদেশি নারীদের। কেউ কেউ মালিকের অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরছেন, আবার অনেকে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিলিপাইন বা ইন্দোনেশিয়ার কর্মীরা প্রশিক্ষিত হয়ে আসায় তারা ভালো অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণহীন নারী পাঠানোয় তারা আধুনিক শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝতে পারছেন না। এছাড়া বিপদে পড়লে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও পুরনো। ভিটেমাটি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই।










