মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবা শরিফের গিলাফ (কিসওয়া) কাটার চেষ্টার অভিযোগে এক তুর্কি নারীকে আটক করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। পবিত্র এই আচ্ছাদনের একটি অংশ কেটে নিজের কাছে স্মৃতিচিহ্ন বা স্মারক হিসেবে রেখে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই নারী কাঁচি হাতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। দ্য ইসলামিক ইনফরমেশনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তুরস্ক থেকে আসা একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে মক্কায় গিয়েছিলেন ওই নারী। কাবার চত্বরে থাকা অবস্থায় তিনি কাঁচি দিয়ে গিলাফের একটি অংশ কাটার চেষ্টা করেন। এ সময় আশপাশে থাকা অন্য মুসল্লিরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে বারবার সতর্ক করে বলেন যে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কাজ। কিন্তু তিনি কারও বারণ না শুনে নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখলে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীকে মিসরীয় নাগরিক বলে দাবি করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ইসলামী তথ্যসেবার প্রতিনিধি ওতাইবি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আটক নারী তুরস্কের নাগরিক। তবে আটকের পর ওই নারীর বর্তমান আইনি অবস্থা কী বা তাঁকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে।
আরও
উল্লেখ্য, পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ বা ‘কিসওয়া’ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে অন্যতম পবিত্র একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। কালো রেশমি কাপড়ে সোনালি সুতোয় পবিত্র কোরআনের আয়াত খচিত এই মূল্যবান আবরণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা বা এর ক্ষতিসাধন করা সৌদি আরবের আইনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।










